প্রজেকশন কিবোর্ড কিংবা অপটিক্যাল ভার্চুয়াল কীবোর্ড যা মানুষের হাত ও আঙ্গুলের গতি বিশ্লেষণ করে ইনপুট নিতে পারে, অর্থাৎ আপনি কোন কিছু লিখতে চাইলে তা লিখতে পারবেন বা অন্যান্য সব কাজই করতে পারবেন, যে কাজগুলো
সাধারণ কিবোর্ড কিংবা মাউস দিয়ে করা যায়। ইচ্ছা করলে, এটাকে মাউস হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে
পারে। এক কথায় ইনপুট ডিভাইস হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।
এই কিবোর্ডটির অন্যতম সুবিধা হল, এটি আকারে ছোট,তাই সহজে পরিবহন করা যায়,যেকোন
জায়গার বসে আপনি কাজ করতে পারবেন।
১৯৯২ সালে আইবিএম কোম্পানির ইন্জ্ঞিনিয়াররা একটা ধারণা করেছিল।পরবর্তীতে ২০০২ সালে,স্টার্ট আপ কোম্পানি Canesta এই কিবোর্ডটি তৈরি করেন।তখন অবশ্য যন্তটা বর্তমান সময়ের কিবোর্ডের মত এত উন্নত ছিল না।
এই কিবোর্ডটিতে দুটি লইডি এবং একটি ইনফ্রারেড সিগানাল এবং কিছু সেন্সর ব্যবহার করা হয়।এই যন্ত্রটি চালু করলে ইনফ্রায়েড বিম তৈরি করে।আপনি যখন,কিবোর্ডে কোন বার্টনে আঙ্গুল রাখবেন,কিছু ইনফ্রায়েড রশ্মির বিম ভেঙ্গে যায়, তখন যন্ত্রে লাগানো সেন্সর চিপ নির্ধারণ করে কোন জায়গার বিম ভেঙ্গেছে, তা নির্ধারণ করে এবং যন্ত্রে সাথে থাকা সফটওয়্যার ঐ জায়গাতে কি বার্টন ছিল এবং বার্টন কি কাজ করবে তা নিকটবর্তী ডিভাইজ যেমন-পিসি,স্মার্টফোন,পিডিএএস ইত্যাদি ব্লুটুট ডিভাইজে আপনার ট্রাইপকৃত অক্ষরগুলো পাঠাতে থাকবে।ব্যবহারকারী প্রতি মিনিটে সর্বচ্চো ৪০০ অক্ষর টাইপ করতে পারবেন।ব্যবহারকরী
ইচ্ছা করলে এটি কে মাউস হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে,এর জন্য আপনাকে fn ও windows
key প্রেস করতে হবে ।তাহলে
এটি মাউস হিসাবে কাজ করবে।আবার এটি কে কিবোর্ড হিসাবে ব্যবহার
করতে চাইলে শুধু windows key
প্রেস করলেই হবে।
এটিতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে,তাই সর্বনিম্ন ১২০ মিনিট একটানা টাইপ করা যায় এবং USB পোর্টের সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জ দিয়া যায়। ভার্চুয়াল কি কিবোর্ডটির আকার সাধারণত ২৯৫ মিলি * ৯৫ মিলি ।তবে ব্যবহারকারী ইচ্ছামত পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।যন্ত্রটি থেকে সাধারণত ৬০ মিলি দূরে কিবোর্ডটি দেখা যায়।
মো: আবু হেনা শুভ।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
কম্পিউটার সাইন্স এবং ইনঞ্জিনিয়ারিং।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন